হাওজা নিউজ এজেন্সি: যুদ্ধটি শুরু হয় ব্যাপক হামলা ও বেসামরিক মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যা দ্রুতই মানবিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির দীর্ঘ শুনানিতে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল তাঁর প্রথম শপথভিত্তিক উপস্থিতি। সেখানে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানান। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এই যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল বলে সমালোচনা করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতে যুক্ত হওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করেন। যুদ্ধের প্রথম দিনে মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলার ঘটনাও শুনানিতে আলোচিত হয়; তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো দায় স্বীকার করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, কংগ্রেসে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতেও হেগসেথ ডেমোক্র্যাটদের কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়েন। যুদ্ধের ব্যয়, মানবিক ক্ষয়ক্ষতি এবং অস্ত্রভাণ্ডারের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৭ সালের জন্য প্রস্তাবিত প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটকে নজিরবিহীন বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নিউইয়র্ক টাইমস বিশ্লেষণে বলা হয়, বিপুল সামরিক বাজেট থাকা সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধ মার্কিন সেনাবাহিনীর কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা উন্মোচিত করেছে। হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের প্রভাব এবং তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কৌশল অত্যন্ত ব্যয়বহুল মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পত্রিকাটি ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি উন্নয়ন, সস্তা অস্ত্রের ব্যাপক উৎপাদন, শিল্প সক্ষমতার সংস্কার এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করে।
চীনের সিজিটিএন জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৬ সালের মে মাস থেকে ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তেল উৎপাদনের বিষয়ে আরও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
রাশিয়ার রিয়া নভোস্তি প্রতিবেদনে পুতিন ও ট্রাম্পের দেড় ঘণ্টার টেলিফোন আলাপের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইরান ইস্যু গুরুত্ব পায়। পুতিন সতর্ক করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল হামলা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং রাশিয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দেয়।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে যুদ্ধের সামরিক বাস্তবতা নিয়েও সমালোচনা উঠে এসেছে। মা’রিভ লিখেছে, বিস্ফোরক ড্রোনের হুমকি সম্পর্কে আগেই সতর্কতা থাকলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যথাযথ প্রস্তুতি নেয়নি। অন্যদিকে টাইমস অব ইসরায়েল বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি অবস্থান এখন অনেকাংশে অর্থনৈতিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে অতিক্রম করে। তাই এখানে যে কোনো উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠলেও উপসাগরীয় অনেক দেশের অর্থনীতি এখনো তেল রপ্তানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
আপনার কমেন্ট